
.
এমনই এক চিকিৎসক ডাক্তার আশরাফ জুয়েল। পেশায় চিকিৎসক হলেও মননে তিনি আপাদমস্তক কবি ও লেখক। একের পর এক লিখে চলেছেন বই। .
.
কবি আশরাফ জুয়েলের জন্ম ১৯৭৭ সালে, দেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ব্যাংক কর্মকর্তা পিতার চাকরির সুবাদে তাকে যেতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। শৈশব কৈশোর কেটেছে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায়। পরবর্তীতে সেসব বৈচিত্রই স্থান পেয়েছে তার লেখা গল্প ও কবিতায়। ছোটোবেলা থেকেই অদম্য মেধাবী ডাক্তার আশরাফ জুয়েল এস এস সি পাশ করেন হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এরপর ভর্তি হন উত্তরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজে। সেখান থেকে এইচ এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণের পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস পাশ করার পর ২০০৫ সালে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চাকুরি জীবন শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে সেবা দিয়ে গেছেন নিষ্ঠার সাথে। বর্তমানে ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন তার লেখালিখি। .
.
লেখালিখিকে নেশা হিসেবে নিলেও চিকিৎসা পেশাকে ‘সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সুযোগ’ বলে মনে করেন ডাক্তার আশরাফ জুয়েল। চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকায় মৃত্যুকে তিনি দেখেছেন কাছ থেকেই। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রচেষ্টা, আকুতি তিনি বারবার দেখেছেন নিবিড়ভাবে। ডাক্তার আশরাফ জুয়েল মনে করেন, চিকিৎসক থেকে কবি হয়ে ওঠার পেছনে দায় আছে তার পেশাগত জীবনেরও। এত কাছ থেকে তিনি একের পর এক জীবনযুদ্ধ দেখেছেন তার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। আর সে থেকেই তার কবিতাগুলোর মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে দুঃখ, শোক কিংবা বেঁচে থাকার দুর্দমনীয় প্রচেষ্টা। .
.
কবি আশরাফ জুয়েলের লেখালিখির শুরুটা হয় ছাত্র জীবন থেকেই। তবে মলাটবদ্ধ বই প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। সে বছর প্রকাশিত হয় তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘যুদ্ধ ছাড়া শুদ্ধতা অসম্ভব’। এরপর একে একে তার মোট সাতটি বই প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে চারটিই কাব্যগ্রন্থ। তার প্রথম গল্পের বই প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। বইটির নাম ‘রাষ্ট্রধারণার বিরুদ্ধে মামলা ও বিবিধ গল্প’। বইটি তিনি লিখেছিলেন রাজনীতি সচেতনতার জায়গা থেকে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ নিয়ে লেখা এই বইটি তিনি লিখেছিলেন অবরোধের উত্তাল সময়কে কেন্দ্র করে। সে সময় লেখকের মমতাময়ী মা পেট্রল বোমার আঘাতে পুড়ে যান। মায়ের সাথে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার আঘাত লেখককে বইটি লেখার শক্তি জুগিয়েছিল। সেই আঘাতের ফলে লেখকের মায়ের মুখ এখনও কিছুটা বিকৃত হয়ে রয়েছে। মায়ের মুখের সেই ক্ষতচিহ্ন আজও কষ্ট দেয় ডাক্তার আশরাফ জুয়েলকে!.
.
এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কবি আশরাফ জুয়েলের ‘কবিরা আজীবন বিরোধী দল’ নামক একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে বুনন প্রকাশনী। এছাড়াও অনলাইনে বই কেনার ওয়েবসাইট রকমারি ডট কমেও পাওয়া যাচ্ছে বইটি। কবি আশরাফ জুয়েল মনে করেন, কবিরা হলো সমাজের আয়না। তিনি কবিতার মাধ্যমে এই সমাজের বিভিন্ন ঘটনা ও চরিত্রকে আঁকতে চেয়েছেন বলেই মনে করেন তিনি।.
.
লেখালিখির মাধ্যমে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন এই চিকিৎসক। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রাষ্ট্রধারণার বিরুদ্ধে মামলা ও বিবিধ গল্প’- জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয় এবং পাঠক ও সমালোচক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনি পেয়েছেন ‘ইতিকথা মৈত্রী সাহিত্য সম্মাননা-২০১৭’। লেখালিখির পাশাপাশি সম্পাদনার সাথেও যুক্ত আছেন এই চিকিৎসক। ‘পূর্বপশ্চিম সাহিত্য পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি।.
.
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ডাক্তার রওশন আরা খানম ইউনাইটেড হাসপাতালে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। .
.
কবি আশরাফ জুয়েল মনে করেন, মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। যদিও আমরা আমাদের জীবনকে খুব সস্তা মনে করি, তবুও আমাদের কখনোই জীবনকে অবহেলা করা উচিত নয়। বেঁচে থাকার আঁকুতি তিনি প্রতিনিয়তই দেখেছেন আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে। আর তাই তিনি একটি অর্থপূর্ণ জীবনের প্রতি বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন! . .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: